
2026-08-22 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ, | Kaliachak Sangbad | Views : 94
জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলা অশিক্ষক কর্মী ও পড়ুয়াদের মধ্যে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে বামনগোলা থানার পুলিশ বামনগোলা: স্কুলের ভিতরেই যদি একজন মহিলা অশিক্ষক কর্মী নিরাপদ না থাকেন, তাহলে শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা দেবে কে—জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ঘটনাকে ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। মালদার বামনগোলা থানার অন্তর্গত জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এক মহিলা অশিক্ষক কর্মী ও পড়ুয়াদের মধ্যে হাতাহাতির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। গোটা ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মহিলা অশিক্ষক কর্মী প্রতিমা মণ্ডলের সঙ্গে একটি ট্রান্সফার সার্টিফিকেটে তথ্য লেখাকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত হালদারের সঙ্গে বচসা হয়। প্রতিমা মণ্ডলের অভিযোগ, এক প্রাক্তন ছাত্রের ট্রান্সফার সার্টিফিকেটে ভুল তথ্য লেখার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশে রাজি না হওয়ায় তাঁকে চড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও মহিলা কর্মীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত হালদার। তাঁর দাবি, তিনি শুধু সার্টিফিকেটটি লিখে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। উল্টে তাঁকেই চড় মারা হয় বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর ঘটনাটি জানতে পেরে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ওই মহিলা অশিক্ষক কর্মীর কাছে বিষয়টি জানতে চান। সেই সময়ই স্কুলের ভিতরে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনারই একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং স্কুলের ভিতরে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রতিমা মণ্ডলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভিতরে একজন মহিলা অশিক্ষক কর্মীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের হাতাহাতির ঘটনা সামনে আসার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। তবে এই ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশের কাছে জানানো হয়ে থাকলে, অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? তদন্ত কোন পর্যায়ে ছিল? অভিযোগের পরেও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে কেন আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—সেই প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বামনগোলা থানার পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিও, সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভাইরাল ভিডিও বা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। পুলিশি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। সব মিলিয়ে, বিদ্যালয়ের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কুলে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দক্ষিণ মালদা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান একজন স্কুলের অশিক্ষক মহিলা কর্মীর উপর যেভাবে মারধর করা হলো তাকে কু প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনগতভাবে করা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এরকম স্কুলে রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না l তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ পুলিশ তদন্ত করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ
