
2026-09-11 | মিশন সংবাদ,শিক্ষা,পশ্চিমবঙ্গ, মালদা,Viral ,খবর,রাজ্য, | Kaliachak Sangbad | Views : 27
শিক্ষক দিবসে পারফেক্ট মিশনে অন্যরকম আয়োজন, ছাত্রছাত্রীদের বড় স্বপ্ন দেখার ডাক আবেদিন হক আদির নাজমুস সাহাদাত, কালিয়াচক: শিক্ষক দিবসে হাতে শুধু ফুল নয়, ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হল বড় স্বপ্ন দেখার সাহস। শিক্ষককে সম্মান জানানোর প্রচলিত আয়োজনের বাইরে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা নিয়ে শনিবার অন্যরকমভাবে শিক্ষক দিবস পালন করল পারফেক্ট মিশন। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মোটিভেশনাল স্পিকার আবেদিন হক আদি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পারফেক্ট মিশনের কর্ণধার আবদুল মালেক, বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও মিশনের ছাত্রছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে মূলত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো যায় এবং কীভাবে জীবনের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা হয়। ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেদিন হক আদি বলেন, জীবনে সাফল্যের প্রথম ধাপ হল স্বপ্ন দেখা। তাঁর কথায়, ‘‘একজন শিক্ষার্থী যখন স্বপ্ন দেখা হারিয়ে ফেলে, যখন স্বপ্ন দেখতে ভুলে যায়, তখন সে জড় পদার্থের মতো হয়ে যায়। যারা স্বপ্ন দেখতে জানে না, তারা জিততেও জানে না। যারা বড় স্বপ্ন দেখেনি, তারা কোনওদিন বড় কিছু অর্জনও করতে পারেনি।’’ ছাত্রছাত্রীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যার স্বপ্নের আয়তন যত বড়, তার সাফল্যের আয়তনও তত বড়।’’ পড়াশোনার পাশাপাশি ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ় থাকার পরামর্শ দেন তিনি। মালদহের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। গৌড় ও পাণ্ডুয়ার ধ্বংসাবশেষের কথা উল্লেখ করে আবেদিন হক আদি বলেন, এই অঞ্চল একসময় সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, মালদহের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মাটি নয়, মানুষ। সেই মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে তৈরি করার কাজ পারফেক্ট মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি করে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, পারফেক্ট মিশনের কর্ণধার আবদুল মালেক জানান, ২০১২ সাল থেকে পথচলা শুরু পারফেক্ট মিশনের। মাধ্যমিকের পর আর্থিক সমস্যা কিংবা বিভিন্ন কারণে বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে। অথচ তাঁদের অনেকের মধ্যেই থাকে প্রতিভা এবং বড় হওয়ার স্বপ্ন। মাধ্যমিকের ফল বা নম্বরের কারণে যেসব ছাত্রছাত্রী বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও ভবিষ্যতে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন পেশায় যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই মূলত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পঠন-পাঠনকে কেন্দ্র করে মিশনের পথচলা শুরু হয়। আবদুল মালেক বলেন, একটি ছাত্রের শুধু ভালো ফল করাই শেষ কথা নয়। তার প্রতিভাকে চিহ্নিত করা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক দিশা দেখানোও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষক দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে যেন একটাই বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠল শিক্ষক শুধু বইয়ের পাঠ দেন না, তাঁরা স্বপ্ন দেখতে শেখান। আর সেই স্বপ্নই একদিন বদলে দিতে পারে একটি জীবন।
