
2026-08-31 | পশ্চিমবঙ্গ,Viral ,রাজ্য, | Kaliachak Sangbad | Views : 70
কুণাল-মদন-সজলদের টপকে ‘দাদাগিরি’ নাওশাদের! রাজনীতির প্রতিপক্ষদের হারিয়ে দেবের মঞ্চে বুদ্ধির খেলায় চ্যাম্পিয়ন আইএসএফ বিধায়ক এম নাজমুস সাহাদাত এক মঞ্চে ছয় রাজনৈতিক মুখ। অথচ নেই মিছিল, নেই স্লোগান, নেই রাজনৈতিক তর্কের উত্তাপ। নেই বিধানসভার সেই চেনা চাপানউতোরও। বদলে রয়েছে প্রশ্ন, উত্তর, হাসি-ঠাট্টা আর বুদ্ধির লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের শেষ বাঁকে বাজিমাত করলেন আইএসএফ বিধায়ক নাওশাদ সিদ্দিকী। যাঁকে কখনও বিধানসভায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায়, কখনও রাজনৈতিক সভায় প্রতিপক্ষকে নিশানা করতে দেখা যায়, সেই নাওশাদকেই এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য ভূমিকায়। রাজনীতির মঞ্চে নয়, জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি আনলিমিটেড’-এর বিশেষ পর্বে। সামনে সঞ্চালক। অভিনেতা দেব অধিকারী। আর প্রতিপক্ষের আসনে বাংলার রাজনীতির পরিচিত ছয় মুখের মধ্যে আরও পাঁচ জন। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্র, অন্য দিকে বিজেপির সজল ঘোষ ও কৌস্তভ বাগচী। সঙ্গে সিপিআইএমের মোস্তাফিজুর রহমান। রাজনৈতিক মতাদর্শে তাঁরা একে অপরের থেকে বহু দূরে। কিন্তু ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে সেই বিভাজনের জায়গা নেই। সেখানে লড়াইটা কে কত দ্রুত ভাবতে পারেন, কার সাধারণ জ্ঞান কতটা পোক্ত এবং মুহূর্তের মধ্যে কে সঠিক উত্তর দিতে পারেন—তা নিয়ে। আর সেই বুদ্ধির খেলাতেই শেষ হাসি হাসলেন নাওশাদ। এই বিশেষ পর্বের পুরস্কারমূল্য ৫০ হাজার টাকা। প্রতিযোগিতার উত্তেজনা যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে লড়াইয়ের আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত অন্য প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা নাওশাদের দখলে যায়। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে এবার ‘দাদাগিরি’র মঞ্চেও নিজের উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিলেন তিনি। তবে শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, এই পর্বের আসল আকর্ষণ ছিল রাজনৈতিকভাবে বিপরীত মেরুতে থাকা মানুষগুলিকে একই মঞ্চে দেখা। যে কুণাল ঘোষ কিংবা মদন মিত্রকে রাজনৈতিক বক্তব্যে সরব হতে দেখা যায়, তাঁরাই এখানে মজার ছলে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বিজেপির সজল ঘোষ ও কৌস্তভ বাগচীকেও দেখা গিয়েছে অন্য মেজাজে। সিপিআইএমের মোস্তাফিজুর রহমানও সামিল হয়েছেন সেই লড়াইয়ে। আর গোটা আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন দেব। রাজনৈতিক অভ্যাসে কথার লড়াই যখন একটু অন্য দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন সঞ্চালকের আসন থেকে পরিস্থিতি সামলেছেন তিনি। তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে মজার মন্তব্য ‘‘এটা বিধানসভা নয়, এটা দাদাগিরি।’’ এই একটি বাক্য যেন গোটা অনুষ্ঠানের চরিত্রটাই বলে দেয়। বিধানসভার রাজনৈতিক উত্তাপ এখানে জায়গা করে দিয়েছে বিনোদনকে। প্রতিপক্ষ এখানে শত্রু নয়, সহ-প্রতিযোগী। আর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, শেষ কথা বলছে বুদ্ধি ও উপস্থিত বুদ্ধি। পর্বে সজল ঘোষের রসিকতাও দর্শকদের নজর কেড়েছে। এমনকী স্ত্রীকে ভিডিয়ো কল করে তাঁর সঙ্গে মজার কথোপকথনের মুহূর্তও অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ‘দাদাগিরি’র এই বিশেষ পর্ব যেন রাজনীতির পরিচিত চরিত্রগুলিকে নতুন করে চিনিয়ে দেওয়ার এক মঞ্চ। আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নাওশাদ সিদ্দিকী। বিধানসভার বিতর্কের মঞ্চে নয়, এবার বুদ্ধির লড়াইয়ে প্রতিপক্ষদের পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নের হাসি তাঁর মুখে। রাজনীতির মঞ্চে যেখানে জয় মানে ভোটের হিসাব, সেখানে ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে জয় মানে মাথার ভিতরের খেলায় এগিয়ে থাকা। সেই খেলায় এবার নাওশাদের দাদাগিরিই শেষ কথা!
