
2026-08-31 | পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 15
বাইজিদ মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:- চিকিৎসা তাঁর পেশা, কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন তাঁর নেশা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা, জনস্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আকবর হোসেন। তাঁর সমাজসেবার পরিধি শুধুমাত্র নিজের কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা এবং সামাজিক সহায়তার কাজ করে চলেছেন তিনি। ২০০৪ সাল থেকে সমাজসেবার পথচলা ২০০৪ সাল থেকে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর সমাজসেবার পথচলা শুরু। সময়ের সঙ্গে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, চিকিৎসার অভাব এবং আর্থিক অসহায়তা তাঁকে আরও বেশি করে জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত করে। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির, ওষুধ বিতরণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ধীরে ধীরে তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। একটি স্বপ্নের নাম—‘নবদিশা’ মানুষের জন্য আরও সংগঠিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই ২০১০ সালে তাঁর উদ্যোগে উস্থি থানার ইয়ারপুর অঞ্চলে শুরু হয় ‘নবদিশা’ সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন। “মানুষের সাথে, মানুষের পাশে”—এই আদর্শকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে নবদিশা। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির, চক্ষু পরীক্ষা ও চক্ষু অপারেশন, রক্তদান শিবির, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ, খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা—বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই সংগঠন। ডাঃ আকবর হোসেনের কাছে সমাজসেবা কখনও প্রচারের বিষয় হয়ে ওঠেনি। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং একজন অসহায় মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি দেখতে পাওয়াকেই তিনি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। করোনাকালে মানবিকতার উজ্জ্বল অধ্যায় তাঁর সমাজসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি হয় COVID-19 মহামারির সময়। ২০২০ সালের সেই কঠিন সময়ে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন চিকিৎসক ও সমাজকর্মী—দুই পরিচয়েই মানুষের পাশে দাঁড়ান ডাঃ আকবর হোসেন। ডায়মন্ড হারবারে COVID Safe Home-এর দায়িত্ব পালন করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে দুই হাজারেরও বেশি করোনা আক্রান্ত মানুষের কাছে সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। করোনার কঠিন সময়ে নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও রোগীদের পাশে থাকার পাশাপাশি তিনি নিজেও দু’বার করোনা আক্রান্ত হন। এর মধ্যে একবার ICCU-তে আট দিন ভর্তি ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সুস্থ হয়ে ফের মানুষের সেবার কাজেই নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। স্বীকৃতি এসেছে, থামেনি পথচলা দীর্ঘদিনের নিরলস সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ডাঃ আকবর হোসেন পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা। India Book of Records 2022-এ সর্বাধিক COVID রোগীর সেবার জন্য তাঁর কাজ স্বীকৃতি লাভ করে বলে জানা যায়। এছাড়াও করোনা যোদ্ধা হিসেবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর মেডেল ও সার্টিফিকেট, জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকের সম্মাননা-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি প্রায় শতাধিক সম্মাননা পেয়েছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখিও করে আসছেন তিনি। তবে পুরস্কার বা সম্মাননা তাঁর কাছে কখনও কাজের মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠেনি। বরং প্রতিটি স্বীকৃতিই তাঁকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। চিকিৎসক থেকে মানুষের আপনজন একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু প্রেসক্রিপশন লেখা কিংবা রোগের চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীর অসহায়তা বোঝা, দরিদ্র মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং প্রয়োজনের সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোও মানবিক চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাঃ মোঃ আকবর হোসেনের দীর্ঘ পথচলা যেন সেই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দেয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেখেছেন মানুষের দুঃখ, অভাব, অসহায়তা এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে গেছে মানুষের কাছে। কখনও চিকিৎসকের ভূমিকায়, কখনও সমাজকর্মীর ভূমিকায়, আবার কখনও একজন সাধারণ মানুষের মতোই তিনি দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে। আগামী দিনের লক্ষ্য আগামী দিনেও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর। সময় বদলেছে, দায়িত্ব বেড়েছে, সমাজসেবার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়েছে—কিন্তু বদলায়নি তাঁর মূল লক্ষ্য: মানুষের জন্য কাজ করা, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করা। তাই ডাঃ মোঃ আকবর হোসেনের দুই দশকের সমাজসেবার গল্প শুধুমাত্র একজন চিকিৎসকের সাফল্যের গল্প নয়; এটি একজন মানুষের মানবিক দায়বদ্ধতা, নিষ্ঠা এবং নিরলস পথচলার গল্প। সমাজসেবায় দুই দশক—মানুষের দুঃখে পাশে থাকা এক চিকিৎসকের নিরলস পথচলা। আর সেই পথচলার অঙ্গীকার আজও একই— “নবদিশা—মানুষের সাথে, মানুষের পাশে।”
