Saturday 19 September







নদী এগোয়, মানুষ সরে—গঙ্গার তাণ্ডবে বদলে যাচ্ছে মালদহের মানচিত্র

2026-09-11 | শিরোনাম,পশ্চিমবঙ্গ,Viral ,রাজ্য, | Kaliachak Sangbad | Views : 12

Reporter
এম নাজমুস সাহাদাত
REPORTER

এম নাজমুস সাহাদাত :- একদিকে ঘরের উঠোনে জল। অন্যদিকে চোখের সামনে এগিয়ে আসছে নদী। কোথাও রাস্তা কেটে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, কোথাও চাষের জমি তলিয়ে গিয়েছে বন্যার জলে। কোথাও আবার গবাদি পশু নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন মানুষ। জল বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের আতঙ্কও। গত বছরের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই ফের গঙ্গার অস্বাভাবিক জলস্তর বৃদ্ধিতে মালদহের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার ছবি। কালিয়াচক-৩ ব্লকের কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হোসাইনপুর যেন সেই আশঙ্কারই এক প্রতিচ্ছবি। গঙ্গার জলের ধাক্কায় মূল রাস্তার একটি অংশ কেটে যাওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। গত চার-পাঁচ দিন ধরে পারলালপুর, হোসাইনপুর, মনডায়, পার দেওনাপুর, শোভাপুর-সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। বহু চাষের জমি ইতিমধ্যেই জলের তলায়। কোথাও কোথাও বাড়ির বারান্দা পর্যন্ত উঠে এসেছে জল। তার সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সমস্যাও। রাস্তা কেটে যাওয়ার জায়গায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের তরফে দুটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর রাস্তার কাজ হওয়ার পরেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নিম্নমানের কাজের কারণেই ফের গঙ্গার জলের চাপে রাস্তার একটি অংশ ভেঙে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। কালভার্ট নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, রাস্তা ও কালভার্টের কাজ যথাযথভাবে করা হলে জলের চাপে এভাবে রাস্তা কেটে যেত না। দ্রুত প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব শুধু কালিয়াচক-৩-তেই সীমাবদ্ধ নয়। বৈষ্ণবনগর বিধানসভা এলাকার নদীতীরবর্তী গ্রামগুলিতেও পরিস্থিতির খোঁজ নিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের ভাঙাটোলা এবং বীরনগর-১ নম্বর অঞ্চলের দুর্গারামটোলা, লালুটোলা ও ভীমাগ্রাম পরিদর্শন করেন বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি ও সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাস। নদীতীরবর্তী মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জলস্তর, ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নেন। দুর্গত পরিবারগুলির অভাব-অভিযোগও শোনেন তাঁরা। বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি জানান, এর আগে মানিকচক ও ইংরেজবাজারের বিভিন্ন গঙ্গাভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকাও তাঁরা পরিদর্শন করেছেন। এবার কয়েক দিন ধরে বৈষ্ণবনগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করা হবে। পরে সেই রিপোর্ট সরকারের কাছে তুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের ছবি উঠে আসছে ইংরেজবাজারের খাসকোল রবিদাস পাড়া থেকে। প্রায় এক মাস ধরে সেখানে গঙ্গাভাঙন চলছে। ইতিমধ্যেই বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ জায়গায় সরে গিয়েছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন খাসকোল হাইস্কুলের ত্রাণশিবিরে। স্থানীয়দের দাবি, গত দশ বছরে এমন ভয়াবহ ভাঙন তাঁরা দেখেননি। প্রতিদিন নদী যেন আরও একটু করে এগিয়ে আসছে। বসতভিটে, জমি, রাস্তা এক এক করে চলে যাচ্ছে গঙ্গার গ্রাসে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলস্তর। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জলস্তর বৃদ্ধি বন্ধ না হলে খাসকোল এলাকা দিয়ে গঙ্গার জল মালদহ শহরের দিকে ঢুকে পড়তে পারে। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ১৯৯৮ সালের বন্যার থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এটি তাঁর আশঙ্কা ও বক্তব্য, পরিস্থিতির বাস্তব প্রভাব জলস্তর ও নদীর গতিপথের উপরই নির্ভর করছে। রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জল একত্রিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। কাহালা অঞ্চলের নরোত্তমপুর দিয়ারার ৭৩ ও ৭৪ নম্বর বুথও জলমগ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার গবাদি পশু নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। জলবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবন কার্যত থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার নৌকায় করে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে পরিবারগুলির হাতে ত্রিপল, চিড়ে, গুড়, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন সমাজসেবী অভিষেক মিশ্র। জলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের কাছে নৌকায় করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছনোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে দীর্ঘদিন জলবন্দি থাকার আশঙ্কায় আরও ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার সেই মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি এলাকার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের স্পিডবোট এবং কোথাও পায়ে হেঁটে তিনি দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছন। মহানন্দটোলার কালিতলা স্ট্যান্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কাটাহাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। বিধায়ক জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। তাঁর দাবি, এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার এবং লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশাসনের তরফে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আরও পর্যাপ্ত ত্রাণের প্রয়োজন রয়েছে। আর ভূতনীতে যেন বন্যার আরেক অধ্যায়। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই গঙ্গার জলে প্লাবিত মানিকচকের ভূতনীর তিনটি অঞ্চল। বহু মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও নৌকায় করে যাতায়াত, কোথাও নৌকাতেই পৌঁছচ্ছে ত্রাণ। বৃহস্পতিবার ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। ভূতনীর পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলেও জানান বিধায়ক। তবে সফরের দিন এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। মালদহের নদীপাড়ের এই ছবিগুলির মধ্যে জায়গার পার্থক্য থাকলেও দুর্ভোগের ভাষা একই। কারও ঘর জলের তলায়,



মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মালদার মানিকচকের ভুতনি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ সকালে মালদা সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ সহ এক প্রতিনিধি দল।

মালদা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মালদার মানিকচকের ভুতনি ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ সকালে মালদা সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ সহ এক প্রতিনিধি দল। সাম্প্রতিক বন্যায় ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। যদিও বর্তমানে ভুতনির কিছু অংশে জল সামান্য কমতে শুরু করেছে, তাও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বানভাসি মানুষদের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়া সচল রয়েছে কিনা তা যাচাই করতেই মন্ত্রীদের এই সফর। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই বিষয়ে মন্ত্রীদের দল সরাসরি স্থানীয় দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। উল্লেখ্য, ভুতনির এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাঠিয়ে আকাশপথে পরিস্থিতি পরিদর্শন করিয়েছেন এবং দুর্গতদের সহায়তার জন্য ত্রাণ তহবিলে আরও ৫ কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ করেছেন।

ভূতনির বন্যার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভূতনির সেতু এলাকায় পরিদর্শনে জেলা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

ভূতনির বন্যার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভূতনির সেতু এলাকায় পরিদর্শনে জেলা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি সমস্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক পুলিশ সুপার সহ বিধায়ক ও অন্যান্য আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ স্বাস্থ্যপরিসেবা নৌকা ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন বিষয়ে খতিয়ে দেখেন সরজমিনে জেলা শাসক। কথা বললেন সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে। পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলন করে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ভুতনি বানভাসী মানুষের জন্য কি কি ব্যবস্থা করেছে সরকার তার খতিয়ান তুলে ধরেন। দ্রুত ভুতনির বেশ কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে বলে জানাই জেলা শাসক।

নানান কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন পালন

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নানা জনমুখী প্রকল্পের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী মন্ডল চার এর উদ্যোগে পালন করা হলো পুরাতন মালদার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনে। এদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন করেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পলি দাস, উপপ্রধান চিত্তরঞ্জন সরকার, পুরাতন মালদার পঞ্চায়েত সমিতর বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ অসিত সরকার,জেলা পরিষদ সদস্য জোসনা সরকার -সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

ইংরেজ বাজার পৌরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন পালন করলেন।

মালদা: ইংরেজ বাজার পৌরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন পালন করলেন। গেরুয়া রঙের কেক গেরুয়া রঙের নরম পানীয় দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইংরেজ বাজার পৌরসভার সভাকক্ষে পৌরসভার সমস্ত কাউন্সিলর কর্মচারীদের নিয়ে প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন পালন করা হয়। উল্লেখ্য গত সাতদিন আগে ইংরেজ বাজার পৌরসভা থেকে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। দলবদলের হাওয়াতে মালদহ শহরে গুঞ্জন যে কৃষ্ণেন্দু মনে হয় শাসক দলে ঢুকে পরবেন। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সবুজ সংঙ্কেত না দেওয়াতে এখন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই কৃষ্ণেন্দুর। এর মধ্যেই প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন পালন তাও আবার গেরুয়া কেক গেরুয়া নরম পানীয় আলাদা তাৎপর্যময়। গেরুয়া রঙের কেক নিয়ে প্রশ্ন করাতে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, গেরুয়া বলে কোনো বিষয় না,আমার কাছে সমস্ত রং সমান।

জলের মাঝে মানবিকতার হাত, তরুণদের উদ্যোগে ভূতনিতে ৫০০ মানুষের মুখে খাবার

নাজমুস সাহাদাত, মানিকচক: চারদিকে থইথই জল। কোথাও উঠোন ডুবে গিয়েছে, কোথাও ঘরের দরজা পর্যন্ত জল। যোগাযোগের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে বহু পরিবার কার্যত জলবন্দি। বন্যার এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যখন খাবার ও পানীয় জলের জন্য সমস্যায় পড়েছেন ভূতনির বহু মানুষ, তখন দূর এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ছুটে এলেন একদল তরুণ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার তুলে দিলেন তাঁরা। সামসি ও ভাদু এলাকা থেকে খাবার নিয়ে ভূতনির বিস্তীর্ণ বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে যান রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ কয়েকজন যুবক। বন্যার জলে আটকে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে খাবার তুলে দেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। উদ্যোগী যুবকদের কথায়, ‘‘আমরা সামসি এবং ভাদু এলাকা থেকে ভূতনির বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার নিয়ে এসেছি। বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের উদ্দেশ্য।’’ তাঁদের দাবি, এদিন প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যার জেরে ভূতনির বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা এলেই বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। জল বাড়লে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তবে ত্রাণ বিতরণ করেই থামতে চান না এই তরুণেরা। তাঁদের দাবি, প্রতিবছর বন্যার সময় ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। নদীভাঙন রোধ, বাঁধের সুরক্ষা, জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পরিকাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তরুণদের প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে বন্যার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ভূতনির মানুষকে। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও এই এলাকার বন্যা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তাঁদের দাবি। বিধানসভা ও লোকসভায় ভূতনির বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও বক্তব্য, মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। খাবার, পানীয় জল, বাসস্থান, চিকিৎসা ও জীবিকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন জরুরি। বন্যার সময় সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তরুণদের কথায়, ‘‘ভূতনির মানুষও স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চান। তাঁদেরও স্বপ্ন রয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন রয়েছে। বছরের পর বছর বন্যার জলে সেই স্বপ্ন ভেসে যেতে পারে না।’’ প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ভূতনির বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, দুর্যোগের সময় ত্রাণের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তবেই ভূতনির মানুষের দুর্ভোগ কমবে। বন্যার জলে যখন অসহায় বহু পরিবার, তখন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগে মানবিকতার বার্তাই সামনে এসেছে। রিজওয়ান, মতিউল্লাহ, জোবায়ের আহমাদ, আসফাক হোসেন, আসিফ কারিম, তোফায়েল আহমেদ-সহ তরুণদের বক্তব্য, ‘‘দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কর্তব্য।’’

বাড়িতে ঢুকে ২৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ২৫ ভরি সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা।

মালদা: বাড়িতে ঢুকে ২৪ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ২৫ ভরি সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে, ইংরেজবাজার থানার গাবগাছি যদুপুর এলাকায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যেই সমস্ত বিবরণ জানিয়ে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমি ব্যবসায়ী সইদুর রহমান। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে সইদুর রহমান নিচের ঘর থেকে উপরের তলার শৌচালয়ে যান। সেই সময় তাঁর স্ত্রী হাসনা বানু এবং মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান, আলমারিতে রাখা নগদ টাকা ও সোনার গয়না নেই। অভিযোগ, সেই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢুকে টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, আলমারি বা ঘরের কোনও জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়নি। নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা টাকা ও গয়না অনায়াসেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাই তাঁদের সন্দেহ, পরিচিত কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবার থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ১৬ জন বাংলাদেশী নাগরিক। যাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও ১৫জন মহিলা।

মালদা: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আজ মালদা টাউন স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। হাওড়া বালুরঘাট এক্সপ্রেসে করে এই বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রথমে মালদা টাউন স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এরপর পুলিশের গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয় মালদার হোল্ডিং সেন্টারে। পুলিশ সূত্রে খবর ১৬ জন বাংলাদেশিরর মধ্যে দশ জনকে ধরা হয়েছে রাজস্থান থেকে, কেরালা থেকে তিনজন তেলেঙ্গানা থেকে দুজন ও মহারাষ্ট্র থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে সেই সব রাজ্যের পুলিশ। এরপর তাদের মালদার হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। এই ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১৫ জন মহিলা ও একজন পুরুষ রয়েছেন। এদের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। মালদা দিয়ে পুশব্যাক করা হবে সূত্রে জানা যায়।

ভূতনীর বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে বাম নেত্রী মিনাক্ষী, প্রশাসনের পরিকল্পনাহীনতার অভিযোগ

মালদা: বুধবার মানিকচকের ভূতনীর বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দুর্গতদের দুর্ভোগ ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সিপিআইএম রাজ্যনেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি। সকাল থেকে নৌকায় করে উত্তর চণ্ডীপুর, দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বানভাসী এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনের সময় নৌকা থেকে নেমে বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন মিনাক্ষী। তাঁদের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ ও সরকারি সাহায্য পাওয়ার বিষয়েও খোঁজ নেন। পাশাপাশি উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দক্ষিণ চণ্ডীপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে চিকিৎসা পরিষেবার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মালদা সিপিআইএমের জেলা নেতা দেবজ্যোতি সিনহা, জামিল ফিরদৌস, শ্যামল বসাক, রত্না ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিনাক্ষী মুখার্জি অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই ভূতনীর মানুষকে বন্যায় ডুবতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, গঙ্গাভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ এবং পর্যাপ্ত পূর্বপরিকল্পনা নেই। ভোটার তালিকা দেখে ত্রাণ দেওয়ায় বহু মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি পানীয় জলের সংকটের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, চড়া দামে জল কিনে খেতে হচ্ছে বানভাসি মানুষকে। তাঁর দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, পানীয় জল ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।

বুধবার মালদা মার্চেন্টের পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী বন্যা কবলিত ভূতনীতে পৌঁছাতেই ত্রাণ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠলেন বানভাসী অসহায় ভূতনীবাসী।

বুধবার মালদা মার্চেন্টের পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী বন্যা কবলিত ভূতনীতে পৌঁছাতেই ত্রাণ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠলেন বানভাসী অসহায় ভূতনীবাসী। ভূতনীর সেতুর কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর খবর পেতেই মহিলা-পুরুষ সহ শিশুরা টিনের ডোঙায় চেপে বন্যার জল ভেঙে বিভিন্ন এলাকা থেকে ত্রাণ নিতে ভূতনী সেতুর কাছে পৌঁছান। ত্রাণ সংগ্রহের জন্য বানভাসীদের মধ্যে কার্যত হাহাকার পড়ে যায়। সকলেই ত্রাণ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মন্ডল, ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি, মালদা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বসাক সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা মিলে সমস্ত দুর্গত মানুষের হাতে ত্রাণ হিসেবে বিভিন্ন শুকনো খাদ্য খাবার তুলে দেন। সেই খাদ্য খাবার পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানা গেছে।

নিঝুম রাতে প্রসূতিকে উদ্ধার করে নজির গড়লেন ভুতনী থানার পুলিশ ৷

চারিদিকে থৈ থৈ জল, আঁধার আর নিঝুম রাতের নিঃস্তব্ধতা। ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যাওয়া প্রত্যন্ত ভুতনী গ্রামে যখন যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ, ঠিক তখনই এক গর্ভবতী মহিলার প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে এগিয়ে এল ভূতনী থানার পুলিশ। নিঝুম মাঝরাতে জলমগ্ন পথ অতিক্রম করে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য মানবিকতার নজির গড়ল তারা। ঘটনাটি মাঝরাতের রাত তখন আনুমানিক বারোটা। বন্যায় বিদ্যুৎহীন গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে ছিল। গ্রামের সমস্ত রাস্তাঘাট জলের নিচে, কোনো যানবাহন চলার উপায় নেই। ঠিক সেই সময় গ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার তীব্র প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। কোনো আশার আলো না দেখে এবং পেশাদার উদ্ধারকারী দল বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো অসম্ভব জেনে, চরম অসহায় অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা ভূতনী থানায় ফোন করে সাহায্যের আকুল আবেদন জানান। ফোনে প্রসূতির যন্ত্রণার কথা শোনামাত্রই ভূতনী থানার ডিউটি অফিসার বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তৎপর হয়ে ওঠেন। রাতের অন্ধকারে বিপদের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত একটি উদ্ধারকারী নৌকা নিয়ে রওনা দেয় ভুতনী থানার পুলিশের একটি দল। কুচকুচে অন্ধকার ও বিপদসংকুল পথে টর্চের আলো সম্বল করে প্লাবিত নদীর জলের প্রবল স্রোত পার হয়ে পৌঁছাতে হয় মহিলার বাড়িতে। তারপর অত্যন্ত সাবধানতার সাথে যন্ত্রণাকাতর প্রসূতিকে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। এবং অন্ধকার জলপথ পাড়ি দিয়ে তাকে নিকটস্থ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।



Ads







অনুসন্ধান







Follow us on                  

About Us
Kaliachak Sangbad, a pioneering digital platform, is revolutionizing the way citizens access news, information, and services.
Contact Us
Address : Kaliachak, Malda
Call : +91 7001942597
WhatsApp : +91 9749218411
Email : kaliachaksangbad@gmail.com

Total Visitor : 157037