*দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে NEET-UG 2026-এ কৃতিত্ব, এমবিবিএসে পড়ার যোগ্যতা অর্জন কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের ছাত্র রাজিবুল ইসলাম মোল্লার*
*বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-* অদম্য ইচ্ছাশক্তি,কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল অধ্যবসায় থাকলে যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের কৃতি ছাত্র রাজিবুল ইসলাম মোল্লা। সম্প্রতি প্রকাশিত NEET-UG 2026 পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে তিনি এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে অধ্যয়নের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় তার র্যাঙ্ক ২০,৬১৯, যা তার নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রমেরই স্বীকৃতি। রাজিবুলের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুল এবং বায়তুল হিকমা মিশন-এর কাছেও এক গর্বের মুহূর্ত। সাধারণ আর্থিক অবস্থার পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, মেধা ও অধ্যবসায় থাকলে প্রতিকূলতা কখনও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
রাজিবুল মন্দিরবাজার ব্লকের আচনা হাই স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করে ২০২৩ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৪৫০ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।পরবর্তীকালে নিরলস প্রস্তুতির মাধ্যমে তিনি NEET-UG 2026-এ এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, বিদ্যালয়ের প্রাত: সমাবেশে রাজিবুলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন তার পিতা নফুর আলী মোল্লা, বিশিষ্ট সমাজসেবী মেহতাব উদ্দিন গাজী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন কুমার মাইতি বলেন, “সাত ভাইবোনের মধ্যে ষষ্ঠ সন্তান রাজিবুল তার পরিবার, বিদ্যালয় এবং সমগ্র এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজিবুলের মা মারিয়াম বিবি একজন গৃহবধূ। বাবা নফুর আলী মোল্লা গ্রামের একটি ছোট্ট দোকান পরিচালনা করে দশ সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের শিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামেরই সার্থক পরিণতি আজকের এই সাফল্য। রাজিবুলের এই অসামান্য কৃতিত্বে এলাকাবাসী, শুভানুধ্যায়ী,শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সকলের প্রত্যাশা, তিনি ভবিষ্যতে একজন সফল ও মানবিক চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।