2024-10-03 | পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 97
আরণ্যক গল্প শোনায় বাংলার বদ্বীপ অঞ্চলের গ্রাম্য সরল মানুষের, যেখানে কান পাতলে শোনা যায় নদীর ফিসফিস, আর জোয়ার ভাঁটার ছন্দে ম্যানগ্রোভের ডালপালার খসখস উল্লাস। এখানেই আছে সেই রহস্যময়, প্রাণবন্ত, ধাঁধা লাগানো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য। একসময় এটি ছিল গহীন অরণ্য যেখানে জল ও স্থল অবিচ্ছেদ্য আলিঙ্গনে বেঁধে রেখেছিল একে অপরকে। সুন্দরবনের মানুষজন, প্রকৃতির সাথে, বিভিন্ন প্রতিকুলতাকে সঙ্গী করে, আশা-হতাশা, জীবন-মৃত্যুকে বাজি রেখে এগিয়ে চলেছে জীবনের স্রোতে। এই বদ্বীপ অঞ্চলের অধিবাসীরা জীবিকার সন্ধানে, জীবন স্রোতের বিপরীতে বিপদসংকুল জঙ্গলের মধ্যে মধু, মোম, কাঁকড়া, মাছ ধরার জন্য পারি জমায়। সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এই জঙ্গলের মতনই অতি রহস্যময়; তাকে হয়তো সবসময় চোখে দেখা যায় না কিন্তু তার নিঃশব্দ উপস্থিতি, মায়াবী জ্বলন্ত দৃষ্টি, অদৃশ্য ডোরাকাটা উপস্থিতি অরণ্যবাসীরা যেন সবসময় টের পায়। একটা অদ্ভুত ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা জড়িয়ে আছে এই অনুভুতির সাথে। আসলে এই অরণ্যে কেউই একা নয়। মানুষ আর বাঘের সাথে আছে তাদের উপাস্য জঙ্গলের দেবী, বনবিবি। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই দেবীর পুজো করেন। বনবিবি জঙ্গলের সকল প্রাণী ও মানুষের রক্ষাকর্তৃ। বনবিবি পালা গানে উল্লেখ পাওয়া যায় আদিম অরণ্যের একমাত্র দেবীর। এই সকল বিষয়ই সুক্ষাতিসুক্ষ কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বেহালা, বহু বছর আগে যা সুন্দরবনেরই অংশ ছিল, আজ তার গায়ে শহুরে রঙ লাগলেও, আজও সে ভোলে নাই বাঘের গর্জন, নদীর ছলছল শব্দ, মানুষের না বলা কথা কিংবা ম্যানগ্রোভের শোঁশোঁ শব্দ। এই কাজের মাধ্যমে বাস্তব ও লোককথার বুননে সুন্দরবনের সেই আদিম, অকৃত্রিম, বন্য, বীভৎস সৌন্দর্য এর নকশী কাঁথাই বোনা হয়েছে। সুন্দরবনঃ ভাটির দেশে অপরাজেয় মানুষ কোলাজের মতন ম্যাপের সারিতে চোখ আটকে থাকে বহুক্ষন। জিজ্ঞাসু দৃষ্টি বারবার ঘুরে চলে দক্ষিণ থেকে উত্তর, মাতলা থেকে বিদ্যাধরী, সীতারামপুর থেকে নেতাধোপানি, ছোট ছোট ঘর, নৌকা, জাল, খাল বিলের কাটাকুটি আর সাগরের জলে পা ডুবিয়ে ভেসে থাকা ব-দ্বীপের সারি দেখতে দেখতে মন চলে যায় সুন্দরবনে, গরাণ, হেতাল, অর্জুনের দেশে। মানচিত্রের ভিড়ে উঁকি মারতে থাকা বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর দল যেন তাদের বিবর্তনের ইতিহাস বলার জন্যই উঠে এসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। মানচিত্র শুধু মানচিত্রই নয়, তা যেন এই অঞ্চলের প্রায় দেড়শ বছরের নানাবিধ আর্থ-সামাজিক ভৌগলিক পরিবর্তনের দলিল, যা সম্ভব হয়েছে মানুষ ও প্রকৃতির অব্যক্ত বোঝাপড়ায় ও বিবর্তনের নিজ ভাষায়। ম্যাপ দেখতে দেখতে মনটা যখন উজানের টানে ভেসে যেতে চায় ঠিক তখনই পা থেমে যায় বনবিবির সামনে। বনবিবি বা ওলাবিবি সুন্দরবনের সকলের আরাধ্য দেবী। বিভিন্ন গল্প উপকথায় বনবিবির উল্লেখ পাওয়া যায়। বনবিবির কথা বললে দক্ষিন রায়ের কথাতো বলতেই হয়, যদিও কোন একসময় বনবিবি ও তার ভাই জঙ্গলি শাহ দক্ষিণ রায় কে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে পরাজিত করে জঙ্গলের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে তার সীমানা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। দক্ষিণ রায় হচ্ছেন আমাদের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, যাকে দেখতে দেশ বিদেশ থেকে লোক ভিড় জমায় সুন্দরবনের কূলে, উপকূলে। এই ছবিগুলি সবই সেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারে পায়ের ছাপ
