
2026-05-13 | খবর,Viral , মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,শিরোনাম, | Kaliachak Sangbad | Views : 404
মালদার কালিয়াচক চৌরঙ্গী দীর্ঘদিন ধরেই যানজট, অবৈধ দখল, নোংরা আবর্জনা এবং অপরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যায় জর্জরিত। উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল ব্যবসায়িক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে বুধবার কালিয়াচক থানায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করেন বিজেপি নেতা Abhijit Rajak। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনএইচআই-এর আধিকারিক, আরটিও দফতরের প্রতিনিধি, ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিক, টোটো ইউনিয়নের সদস্য, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা। মূলত কালিয়াচক চৌরঙ্গী ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকার যানজট, ফুটপাত দখল, আবর্জনা সমস্যা, ড্রেন পরিষ্কার এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা অভিজিৎ রজক জানান, “দীর্ঘদিন ধরেই কালিয়াচকের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট। বিশেষ করে জাতীয় সড়কে টোটোর অবাধ চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সেই নির্দেশ অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচক চৌরঙ্গীতে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু যানজট নয়, কালিয়াচকের আরেকটি বড় সমস্যা হল নোংরা আবর্জনা। জাতীয় সড়কের গার্ডওয়ালের পাশে প্রতিদিন আবর্জনার স্তূপ জমছে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তেমনই দুর্গন্ধে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা এবং নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবেও সমস্যা বাড়ছে।” অভিজিৎ রজকের বক্তব্য অনুযায়ী, কালিয়াচক চৌরঙ্গীর চারপাশের ড্রেনগুলির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বহু জায়গায় ড্রেন আবর্জনায় ভরে গিয়ে জলনিকাশির পথ বন্ধ হয়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসছে। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দোকানের সামনেও নোংরা জল জমে থাকছে, যার ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সামনে এই সমস্ত সমস্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টোটো ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয় বৈঠকে। টোটো চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকেও কিছু বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অতিরিক্ত ট্রাফিক কর্মী মোতায়েনের কথাও উঠে আসে। এছাড়াও কালিয়াচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক এলাকায় পর্যাপ্ত সুলভ শৌচালয় না থাকায় সাধারণ মানুষ বিশেষ সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। এই বিষয়েও প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কালিয়াচক চৌরঙ্গী এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা সরানো, ড্রেন পরিষ্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করবে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিজিৎ রজক বলেন, “কালিয়াচক উত্তরবঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হয়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি এই ধরনের অব্যবস্থা চলতে থাকে, তাহলে এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। আমরা চাই প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এসে কালিয়াচককে একটি পরিষ্কার, সুন্দর এবং যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলুক।” তিনি আরও জানান, “আজকের বৈঠক শুধুমাত্র আলোচনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। কাল থেকেই বিভিন্ন কাজ শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কালিয়াচকের সমস্যাগুলি নিয়ে কেউ কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এবার প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতর একসঙ্গে বসে আলোচনা করায় সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, শুধুমাত্র বৈঠকেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ কালিয়াচকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট, নোংরা আবর্জনা এবং অবৈধ দখলের সমস্যা শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার সামগ্রিক পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।