
2024-12-06 | কালিয়াচক,পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 92
নাজমুস সাহাদাত, কালিয়াচক: কালিয়াচকের চিকিৎসক ডা: হাজিরুল ইবকার সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য "শ্রেষ্ঠ পুরুষ" ২০২৪ সম্মানে সম্মানিত হলেন কলকাতার সাইনসিটি হল এ। বিভিন্ন সমাজ মূলক কাজে মোট ২০জন ব্যক্তিত্বকে শ্রেষ্ঠ পুরুষ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি, দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর সমাজ উন্নয়নে নানান ভূমিকায় তার কর্মযজ্ঞ চলছে। ক্রমশ তার সেবামূলক কর্মযজ্ঞের ব্যাপ্তি ঘটে চলেছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি, কুসংস্কার মুক্ত সমাজ, রক্ত সংকটমোচনে অগ্রণী ভূমিকায়, দুস্থ রোগীদের অবিচল সাহায্যের হাত, ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থ সাহায্য, শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়নে এবং বাল্যবিবাহ রোধে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। কে এই ডা: হাজিরুল ইবকার? তিনি রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নয়াগ্রামের মাটি তার জন্মস্থান, বর্তমানে কালিকাপুর সন্নিকটে বসবাসের আর এক ঠিকানা। গ্রাম পঞ্চায়েত মেডিকেল অফিসার হিসেবে সদ্য রাজনগর থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত মেডিকেল অফিসারস এসোসিয়েশনের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। দীর্ঘকাল ধরেই কালিয়াচকের সকল চিকিৎসকদের ধরে রেখেছেন ডক্টরস ক্লাব নামক ছাতার তলায়। "হিলফুল ফুজুল" নামক আর একটি সংগঠনের মাধ্যমে বছর ভর নানান কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সেবায় আপ্রাণ নিয়োজিত। কালিয়াচক কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে চলেছেন দীর্ঘকাল ধরেই। বাল্যবিবাহ রোধে নিয়মিত প্রচারের পাশাপাশি সর্বত্র সজাগ দৃষ্টি ও নেশা মুক্ত সমাজ গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত। প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সরকারি কর্মসূচি রূপায়ণে এক অনন্য ভূমিকায় শিক্ষার অগ্রসর, কুসংস্কার মুক্ত সমাজ ও শান্তির বাতাবরণের আবেদন তার পক্ষ থেকে সর্বদা এবং সর্বত্র দেখা যায়। তাই সমাজ সেবায় তিনি পুরস্কৃত ও সম্মানিত হলেন রাজ্যের একজন অন্যতম পুরুষ হিসেবে কলকাতার সায়েন্সসিটি হলএ। ডাক্তারবাবুর কাছে বিভিন্ন সমস্যায় নিয়মিত নিষ্কৃতি পান এলাকার বহু মানুষ। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বহুল খরচ জনিত সমস্যায় সর্বদা থাকেন মানুষের সাথে মানুষের পাশে। হয়তো এমন দিন নেই যে ৫-১০ জন মানুষ তার কাছে উপকৃত হননি বা সাহায্য পাননি। ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছর মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকেছেন ক্রাতা হিসেবে, দুস্থ রোগীদের সাহায্যের হাত ক্রমশ বাড়ছে। মারন রোগগুলি থেকে মুক্তি পেতে লাগাতার সচেতনতা মূলক প্রচার অনুষ্ঠান করে চলেছেন। সুস্থ সমাজ গড়তে ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে নিরন্তর মানুষের সাথে, মানুষের পাশে। তার জীবনের নিত্য সঙ্গী তানিয়া রহমত তিনিও সমাজসেবা ও শিক্ষার প্রসারে নিজেকে উজাড় করে চলেছেন। ধারাবাহিকভাবে তিনিও নানান পুরস্কার ও সম্মানে সম্মানিত। ডাক্তারবাবুর বড় কন্যা আলিশা ইবকার আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপিকা এবং কমনওয়েলথ স্কলার। বর্তমানে সে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে গবেষণারত। ছোট কন্যা আলিফিয়া ইবকার ভূগর্ভস্থ জল গবেষণায় বর্তমানে আমেরিকার নিউ জার্সিতে। সত্যিই কালিয়াচকের মাটিতে এক অনন্য গর্বের পরিবার। চিকিৎসক হাজিরুল ইবকার বলেন, মানবিক দৃষ্টিতেই সেবামূলক কাজগুলো দীর্ঘদিন ধরেই করে গেছি নিরন্তর। সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব বা কর্তব্যবোধ থেকেই এই অনুপ্রেরণা। নিয়মমাফিক বছর ভর এই কাজগুলো করা ভীষণ কঠিন। তবুও করে গেছি এবং করে যাচ্ছি। শত শত মানুষ আছেন যারা কখনো দৈহিকভাবে, কখনো মানসিকভাবে, আবার কখনো আর্থিক সাহায্য নিয়ে হাত বাড়িয়েছেন। তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। পুরস্কার বা সম্মাননার প্রত্যাশী কখনোই ছিলাম না। আজ এই পুরস্কার পেয়ে নিশ্চয়ই গর্বিত ও আনন্দিত। তবে মানুষের মধ্যে থাকা ও মানুষের পাশে থাকার অনুভূতি অবশ্যই আলাদা। মানুষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা আনুষ্ঠানিক এই পুরস্কার গুলো থেকে অবশ্যই বহু মূল্যবান।
