2025-01-13 | পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 389
চন্দ্রকোনা, পশ্চিম মেদিনীপুর: তৃণমূল বুথ সভাপতির পেল্লায় পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় নাম এবং প্রথম কিস্তির টাকাও পেয়ে গিয়েছেন। এনিয়ে সরব খোদ তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা, খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপিও। বুথ সভাপতির দাবি তার পাকা বাড়ি নেই মাটির বাড়ি রয়েছে, ঝামেলার ভয়ে সবাই মুখ না খুললেও গ্রামের কেউ কেউ বলছেন পাকা বাড়ি তৃণমুল নেতার। অথচ গ্রামের এমন অনেক আছে যারা বাড়ি পাওয়ার যোগ্য, আবেদন করেও মিলেনি পাকা বাড়ি এমনটাই বলছেন অনেকে।যদিও গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল নেতার পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও যদি বাড়ি পেয়ে থাকে এরকম লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিডিও কে জানানো হবে।মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক বার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বচ্ছতার সাথে সমীক্ষা ও যোগ্যরা যাতে বাড়ি পাই। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমীক্ষা নিয়ে। ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের ভগবন্তপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খুড়শী গ্রামের। এই গ্রামের বাসিন্দা তপন মন্ডল, তার স্ত্রী কাজল মন্ডল ও এক ছেলে (অবিবাহিত) সুমন মন্ডলকে নিয়ে তপন বাবুর পরিবার।তপন মন্ডল পেশায় কৃষক সাথে খুড়শী বুথের তৃণমূলের বুথ সভাপতি। স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে মাটির বাড়িতে বসবাস করলেও গ্রামেই নবনির্মিত একটি একতলা পেল্লায় পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন।এযাবৎ ঠিকই ছিল, কিন্তু তাল কাটলো তার বুথেরই দলের নেতা। খুড়শী গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সদস্য নাজির হুসেন খাঁন তার বুথ সভাপতি পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও বাংলা বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি পাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন।তার অভিযোগ, "বুথ সভাপতি তপন মন্ডলের পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও বাংলা বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় নাম রয়েছে এমনকি প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকে গিয়েছে। অথচ বুথে এমন অনেক মানুষ রয়েছে তারা বাড়ি পাওয়ার যোগ্য তা মিলেনি। এনিয়ে প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। "তৃণমূলের বুথ সভাপতির বিরুদ্ধে তৃণমূলের স্থানীয় নেতার এহেন অভিযোগে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে চন্দ্রকোনায়। এবিষয়ে বুথ সভাপতি তপন মন্ডলের প্রতিক্রিয়া নিতে গেলে তিনি অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেন তার পাকা বাড়ি থাকা নিয়ে, তার দাবি মাটির বাড়ি রয়েছে তাতেই বসবাস করেন। তবে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছেন এবং প্রথম কিস্তির টাকাও ঢুকেছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন।তপন মন্ডল পাকা বাড়ি তার নই বললেও তার স্ত্রী কাজল মন্ডল আমতা আমতা করে স্বীকার করেছেন পাকা বাড়িটি তাদেরই। এনিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলতে গেলে তৃণমূল নেতার প্রসঙ্গে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে গ্রামে অনেকেই বাড়ি পাওয়ার যোগ্য থাকা সত্বেও আবেদন করেও বাড়ি মিলেনি এমনটাই জানিয়েছেন তারা।এনিয়ে শাসকদলকে বিঁধেছে বিজেপি। বিজেপির চন্দ্রকোনা-১ মন্ডল সভাপতি সুকান্ত দোলই বলেন, "আবাস যোজনার বাড়ি বন্টনে প্রশাসন ও তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে তারা বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, খুড়শীর বুথ সভাপতির পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও বাড়ি পাওয়ার বিষয়টি তারাও জানেন। শুধু তারাই নই শাসকদলের নেতারাও আবাস যোজনায় স্বজনপোষন নিয়ে মুখ খুলছেন। তাদের দলের বুথ সভাপতির বাড়ি পাওয়া নিয়ে দলের নেতারা সরব হওয়ায় প্রমানিত তাদের অভিযোগ ভুল না। "যদিও এবিষয়ে ভগবন্তপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোনাজুর মোল্লা জানিয়েছেন, "এবিষয়ে আমাদের জানা নেই,এখনও পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তৃণমূলের বুথ সভাপতি বাড়ি পেয়েছেন এমন অভিযোগ আসলে তদন্ত করে বিডিওকে জানানো হবে। "তৃণমূলের বুথ সভাপতির পাকা বাড়ি থাকা সত্বেও বাংলা বাড়ি প্রকল্পের বাড়ি পাওয়া নিয়ে খোদ শাসকদলের নেতা সরব হওয়া নিয়ে শোরগোল চন্দ্রকোনায়।
