
2025-05-12 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ, | Kaliachak Sangbad | Views : 123
নাজমুস সাহাদাত,কালিয়াচক: ফের আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হল ৩০ টি বাড়ি। ঘটনা মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত এলাকার বীরনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গারামটোলা গ্রামে ভয়াবহ আগুন লেগে পুড়ে ছাই বহু বাড়ি। এলাকাবাসীর বক্তব্য, রান্নার অনুন থেকে লাগে এই আগুন। মূহুর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে ছড়িয়ে পড়ে পরপর ৩০ টি বাড়িতে। অল্প সময়ের মধ্যেই পুড়ে ছাই অনেকগুলো বাড়ি। আরও জানা যায়, দুর্গারামটোল গ্রামে বেশকিছু কাঁচা বাড়িতে বসবাস কয়েকশত মানুষের এবং সকল পরিবারের অবস্থা অনেকটাই দুর্বল। এদিন গঙ্গার পাড় এলাকায় রবিবার সকাল প্রায় ১১ টা নাগাদ ওই দুর্গারামটোলা এক বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে নিমেষের মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে বস্তির ঘরবাড়ি। দ্রুত গ্রামবাসীরা বালতি, মগ নিয়ে পুকুর-নদী থেকে জল তুলে নেভানোর চেষ্টা করলেও তাতে কোন প্রভাবই পড়েনি! খবর পেয়ে মালদহ থেকে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও প্রায় তিশটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া ভস্মি ভূত হয়ে যাওয়া বাড়ির সদস্যরা গঙ্গা নদীতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোই সেখানে বসবাস করছিল। একদিকে অতিরিক্ত তাপদাহ অন্যদিকে রান্না করার সময় আগুন লাগে বলে সূত্রের খবর। বাড়িতে তাদের সকল আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সাইকেল, মোটর বাইক, গ্যাস সিলিন্ডার, ধান, গম, চাল সহ মূল্যবান একাধিক জিনিসপত্র সম্পূর্ণটাই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কোনও কিছুই তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ত্রিশটি পরিবার একেবারে এখন নিঃস্ব। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। অন্যদিকে মোথাবাড়ি থানা এলাকার কাহালা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আগুনে পুড়ে ছাই পরপর দুটি বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রান্না করার সময় একটি রান্নাঘরে হঠাৎই আগুন লাগে সেই রান্না ঘর থেকে অন্য একটি রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে রবিবার সকাল ১০ টা নাগাদ ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এদিন উত্তর লক্ষীপুর অঞ্চলের কাহালা গ্রামের বাসিন্দা সাবুর আলী শেখ ও সাখিম উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তির বাড়িতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় একটি দমকল ইঞ্জিন তবে দমকল আসার আগে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে বলে খবর। কালিয়াচক-৩ নং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুকান্ত সিকদার জানান, বীরনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গারামটোলায় গঙ্গার পাড়ে একটি জায়গা আছে সেখানে একটা বস্তিতে সাড়ে এগারোটা বারোটা নাগাদ কিভাবে আগুন লাগে এর কারণ এখনো আমি জানিনা। মোটামুটি কুড়ি-পঁচিশটা ঝুপড়ি ঘর। খুবই গরীব মানুষ তারা। সেই ঘর গুলো পুড়ে গেছে। ওই এলাকায় আমরা যোগাযোগ করেছিলাম ফায়ার ব্রিগেড এসে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং থানার আইসি সাহেবও ছিলেন। যেহেতু খড়ের বাড়ি আর চড়া রোদ তাই বাড়িগুলো পুরে ছাই হয়ে যায়। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিমকে পাঠানো হয়েছিল এবং সরকারিভাবে যেটা সম্ভব ত্রিপল, কাপড়, বাসনপত্র পৌঁছানো হয়েছে। পরবর্তীকাল আর কোনো ব্যবস্থা থাকলে আমরা করে দেব।
