2025-08-28 | পশ্চিমবঙ্গ | Kaliachak Sangbad | Views : 1131
জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রতিবাদী প্রেসমিট ন্যায়বিচার মঞ্চের ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে আর.জি.কর হাসপালে ডাক্তার অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ব্যবহার করে আন্দোলনের নামে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের টাকা তছরুপ করার ভয়াবহ অভিযোগ এনেছে "ন্যায় বিচার মঞ্চ" এবং সংবাদ মাধ্যমের একটি বৃহত্তর অংশ । ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে ন্যায় বিচার মঞ্চের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সি.ভি.আনন্দ বোস, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এবং আর.জি.কর হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন । শুধু তাই নয় আর.জি.কর হাসপাতাল ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে ন্যায়বিচার মঞ্চের সদস্যরা লিফলেট বিলি করে জনসচেতনতার কাজ করেছেন । এরপর আজ সকালে দেখা গেল আর.জি.কর হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শ্যাম বাজার, কলেজ স্ট্রিট, যাদবপুর, রবীন্দ্র সদন, কলকাতা প্রেসক্লাবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার মঞ্চের পোস্টার । শুধু তাই নয় মঞ্চের পক্ষ থেকে ২৯ সে আগষ্ট কলকাতা প্রেসক্লাবে প্রেসমিট করে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে চলেছে ন্যায়বিচার মঞ্চ । মঞ্চের কনভেনর ও সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী জানান প্রেসমিটে মূলত আমরা জুনিয় ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যদের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে টাকার হিসেব দিয়ে বাকি টাকা ফেরৎ দেয়ার বার্তা দেব । কারণ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যদের সাথে দেখা করে এবং মেইল করে আন্দোলন চলার সময় আমরা তাদের আর্থিক ভাবে স্বচ্ছ থাকতে আবেদন করেছিলাম । কিন্তু সেদিকে তারা কর্ণপাত করেনি কারণ শুরু থেকেই তারা চেয়েছিল আন্দোলনের নামে টাকা কামাতে । আর সেই জন্যই ওরা আন্দোলন চলার সময় হাসপাতালে ডিউটি না করে বহু অসহায় দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে বাধ্য করেছে কিন্তু নিজেদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস জারি রেখেছিল । কোন অনুষ্ঠানের নামে তোলাবাজি করে টাকা কামাতে পাড়ার গুণ্ডা মস্তানদের দেখা যায় কিন্তু ডাক্তার হয়ে আরেক ডাক্তারের মৃত্যুকে নিয়ে কেউ যখন টাকা উপার্জন করে তখন বোধ হয় সমগ্র মানবজাতিকে লজ্জায় মুখ ঢাকতে হয় । একাধিক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা প্রায় চার কোটি টাকা আন্দোলনের নামে ক্রাউড ফান্ডিং করে তুলেছে । কিন্তু তারমধ্যে খরচ হওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকার কোন সঠিক বিল নেই । বাকি প্রায় আড়াই কোটি টাকা এখন কোথায় আছে সেই টাকারও কোন হদিস নেই । শুধু তাই নয় শিল্পী অসিত সাই অভয়ার যে মূর্তি সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে বানিয়েছেন সেই শিল্পীর নামেও ভুয়ো বিল বানানো হয়েছে বলে শুনেছি । আমাদের বিশ্বাস এই অসৎ ডাক্তাররাই আগামী দিনে কিডনি পাচার, অঙ্গ পাচার বা ওষুধের জাল চক্র চালানোর মত সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বেন । কে বলতে পারে অভয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেও হয়তো এরা জড়িত ছিল । পরে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেই আন্দোলনকারীর ভেক ধরে নিজেদের অপরাধ গোপন করছে । ন্যায়বিচার মঞ্চের প্রেসমিটের আরেক বক্তা বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রাজু ঘোষ বলেন আমরা ইতিমধ্যেই এই অসাধু ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি । আগামী দিনে এই সমস্ত অসাধু ডাক্তারদের সামাজিক এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া আমাদের একমাত্র লক্ষ্য । জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার মঞ্চের এই কড়া অবস্থান আগামীদিনে আরেকটি সামাজিক আন্দোলনের সূত্রপাত করতে চলেছে বলে মানুষের অনুমান ।
