
2026-04-28 | Viral , মালদা,পশ্চিমবঙ্গ,রাজনীতি ,বিশ্ব, | Kaliachak Sangbad | Views : 403
মালদা:- এক ব্যবসায়ীর জমির রেকর্ড কেটে জমি দখলের চেষ্টা, বাধা দিতে গেলে মারধরের অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনা সাহাপুর নড়বে হসপিটাল পার্শ্ববর্তী এলাকায়। জানা যায় বিগত ২০২১ সালে সুরজিৎ ঘোষ সেই এলাকায় প্রায় 8 শতক জায়গা রাজ্য সড়কের ধারে কেনে এবং তার পর থেকেই সেখানে এক বেসরকারি ট্রান্সপোর্ট এর কাছে ভাড়া দেয়, বিগত পাঁচ বছর ধরেই নিয়মিত সেই ব্যবসা চলে কিন্তু মাসখানেক আগে দেখে যে হঠাৎ করে তার জমির রেকর্ড কেটে যায় ঘটনা নিয়ে সুরজিৎ ঘোষ তার সমস্ত বৈধ নথিপত্র নিয়ে বি এল আর ও অফিসে যায় সেখানে জানতে পারে যে তার রেকর্ড কেটে সেই এলাকার অর্থাৎ সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য রনি ঘোষ তার নামে করে নেয়। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কি করে রেকর্ড কেটে যায়, সেই নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন সুরজিৎবাবু। কি করে তার রেকর্ড ফিরে পাওয়া যায় তার চেষ্টা চালান, এমতাবস্থায় এদিন রনি ঘোষ তার বাবা নন্দদুলাল ঘোষ এবং তার ভাই সাগর ঘোষ সহ দলবল নিয়ে গোডাউনে এসে তাকে জায়গা ছাড়তে বলে তারই প্রতিবাদ করতে গেলে সুরজিৎ ঘোষ ও তার কাকাকে লাঠিশটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সুরজিৎ ঘোষের পক্ষ থেকে মালদা থানায় অভিযোগ জানানো হয়, পাল্টা রনি ঘোষ তিনিও অভিযোগ জানান। উভয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীরা জানান, সুরজিৎ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই তার জায়গা ভাড়া দিয়েছিলেন, নিয়মিত তিনি যাতায়াত করতেন সেটা আমরা দেখতাম, হঠাৎ এখন শোনা যাচ্ছে যে তার জমির রেকর্ড অন্যজন করে নিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে আতঙ্কিত। এলাকায় জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে, রাতারাতি জমির রেকর্ড কেটে অন্যেষর নামে হয়ে যাচ্ছে। মোটা অংকের টাকা দিয়ে বি এল আর ও অফিস থেকে একের জমি অন্যজনের নামে করে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনকে করা ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঘটনা নিয়ে ভূমি দপ্তরের কিছু কর্মী সহ আধিকারিক এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি বলেন, তৃণমূলের একাংশ জালিয়াতি করে অন্যজনের জমির রেকর্ড কাটিয়ে নিজের নামে করে নিচ্ছে, এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে জবরদখল চালাচ্ছে তারা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভূমি দপ্তরের কিছু আধিকারিকরা এই কাজগুলো করছে। তাই সাহাপুরের ব্যবসায়ীর জমি দখল ও মারধোরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়, অভিযুক্ত তৃণমূলের মেম্বার সহ যে সমস্ত আধিকারিকরা জমির রেকর্ড কাটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, সকল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুলিশ প্রশাসনের কাছে যাওয়ার, তিনি কি ভিত্তিতে গেছেন জানা নেই, তবে তৃণমূল দল কোন অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দেয় না, তৃণমূলের কোনো সদস্য বা প্রতিনিধি যদি অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে দল খোঁজখবর নিয়ে তাকে সতর্ক করে দেওয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে সাংবাদিকের সামনে আসতে চাননি অভিযুক্ত রনি ঘোষ।