
2026-05-21 | মালদা,পশ্চিমবঙ্গ, | Kaliachak Sangbad | Views : 382
গো সংরক্ষণ বিষয়ে শুভেন্দু সরকারকে সার্বিক সমর্থন হিন্দুমহাসভার, মুসলমানদের দেওয়া হলো গোহত্যা থেকে বিরত থাকার বার্তা গোসম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তার সরকারের নেওয়া কর্মসূচিকে সার্বিক সমর্থন জানালো ভারতের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা । রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে আজ প্রায় পঁচিশ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি মন্ডল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপাল আর.এন.রবি. ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিফ সেক্রেটারির কাছে ডেপুটেশন জমা দিল । এরপর হিন্দু মহাসভার রাজ্য কমিটির সদস্যরা কলকাতার বিখ্যাত নাখোদা মসজিদে গিয়ে প্রধান ইমাম মাওলানা মহম্মদ সাফিক কাসমির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই মওলানা সাফিক কাসমি মুসলমান সম্রদায়ের মানুষদের কাছে গোহত্যা বন্ধ করা এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে আবেদন করেছেন । এই প্রসঙ্গে হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই হিন্দু মহাসভা গোহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং গোমাতাকে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করার জন্য আন্দোলন করে আসছে । হিন্দু মহাসভার সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই ১৯৫০ সালে গোসংরক্ষণ বিষয়ে সরকারি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে পর্যন্ত যতগুলো সরকার এসেছে তারা প্রকৃত অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে মুসলিম মৌলবাদকে তোষণ করে এসেছে এবং হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করেছে । কিন্তু আজ ভারতের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বাংলার জনগণের কর্মনিষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় যেভাবে গোমাতাকে সংরক্ষণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তাকে আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি এবং বুকের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । কারণ আমরা বিশ্বাস করি দেশে চিরস্থায়ী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাইলে দেশে অবিলম্বে গোহত্যা বন্ধ করে গোসম্পদকে জাতীয় প্রাণীর সম্মান দেওয়া উচিৎ এবং গো হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিৎ । আমরা বিস্মিত সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলছে গরু কুরবানি করতে দিতেই হবে কারণ এটা তাদের ধর্মীয় অধিকার । কিন্তু আসলে কোরআন বা হাদিসে কথাও গোহত্যার কথা বলা নেই । হিন্দুদের দেবাদিদেব মহাদেব বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে গোমাতা পূজিত হন বলেই একটি অংশের মৌলবাদী মুসলমানরা হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার উদ্যেশ্যে গোহত্যা করে । গোমাংস খাওয়ার সাথে শুয়োরের মাংসের তুলনা কখনোই করা যায়না কারণ হিন্দুরা গোমাংস খায়না গরুকে মায়ের মত শ্রদ্ধা করে বলে । কিন্তু শুয়োরকে মুসলমানরা ঘৃণা করে বলে খায়না । ভারতে গোহত্যা করা বা গোমাংস খাওয়া মানে সরাসরি আমাদের সনাতনীদের ধর্মীয় আবেগকে চ্যালেঞ্জ করা । আমরা বলব হুমায়ুন কবীর প্রয়োজনে বাবার নাম এফিডেফিট করে বাবর রাখুক এবং তারপর ভারত ছেড়ে বাবরের দেশে চলে যাক । প্রয়োজনে আমরা তাকে ভিসা পাসপোর্ট করিয়ে দেব । হুমায়ুনের মত গদ্দারদের জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় । অথচ আমরা খুশি নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা সফিক কাসমি সাহেব গোহত্যা বন্ধের আন্দোলনে সার্বিকভাবে হিন্দু মহাসভার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । আমরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে আবেদন করব গোহত্যা করা থেকে এবং গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে । এতেই সবার মঙ্গল হবে এবং দেশে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে । আজ মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও নাখোদা মসজিদের ইমামকে ডেপুটেশন দেওয়ার কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও অনামিকা মন্ডল, অন্তরা মিত্র, প্রিয়ব্রত ভট্টাচার্য্য, পরিমল মজুমদার, মিন্টু ঘোষ, শৈলেন্দ্র সিংহ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন ।