হার মানেনি মানবতা! অন্ধ বাবার মেয়ের বিয়েতে এগিয়ে এল 'ইনস্টিটিউট অফ ঐশিক'
2026-07-08
*ইনস্টিটিউট অফ ঐশিক জগতে দেয় আলো,এক অচেনা পথ হারা অন্ধের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন*
*বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-* এক পথ হারানো অচেনা অজানা অন্ধের কাছে, খোঁজ করে ফিরে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন জীবন পথের সাথী হয়ে! এক অন্ধ বয়স্ক ব্যাক্তি ট্রেনে করে ভিক্ষে করে জীবন যাপন করতেন !
নিজের কন্যার এক সুন্দর ভাবে বিয়ে দিয়ে পিতৃ স্নেহ ও দায়িত্ব পালন করে জীবনের স্বপ্ন পুরন করতে বিয়ের সরঞ্জাম জোগাড় করতে হাত পাতলেন সবার কাছে! নিশ্চিন্তপুর মার্কেট স্টেশন এ নেমে এক টোটো ওলাকে পয়সা চাওয়ায়, টোটো ওয়ালা নিজের সাধ্য মতো পঞ্চাশ টাকা হাতে দিয়ে বলে আমি এর বেশী আর আর পারলাম না! তবে একটা পথ বলে দিই শোনো! ঐ অদুরের কালি মন্দিরের সামনেই মহাতীর্থ আছে! যার আরেক নাম ইনস্টিটিউট অফ ঐশীক! ওখানে গেলে তুমি তোমার মনের বাসনা পুরন করে ফিরতে পারবে! অন্ধ বললেন, আমি তো ওদের চিনিনা। কি করে গিয়ে চাইবো? বা চাইলে ও দেবে কেন? টোটো ওয়ালা বললেন ওখানে কেউ গেলে খালি হাতে ফিরে যায় না! দেবব্রত বাবুর সঙ্গে দেখা করে তবেই ফিরবেন! উনি হলেন ঐ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান! কথা শুনে অন্ধ সঙ্গে সাথী নিয়ে লাঠি ধরে গিয়ে পৌঁছলেন মহাতীর্থে। দেখা করলেন ওখানকার দায়িত্ব কর্মচারীর সাথে! উনি বললেন দেবব্রত বাবু এখন নেই এখানে, উনি গেছেন তামিলনাড়ু!
অন্ধ দুঃখে ভেঙে পড়লেন! বসে রইলেন অনেকক্ষণ! তারপর হতাশ হয়ে ফিরলেন! যাওয়ার সময় দেবব্রত বাবুর ফোন নাম্বার নিয়ে গেলেন! মহাতীর্থ থেকে বলে দিয়েছিলো যে বার বার ফোন করে যেন দেবব্রত বাবুকে ফোন বিরক্ত না করে !
তবে তুমি পেলেও তোমার মনের আশা পুরন হতে পারে! রাত আটটা নটার দিকে চেষ্টা করে দেখবে ফোন করতে! অফিস থেকে, পরে দেবব্রত বাবুকে ফোনে হোয়াটস্যাপ করে ঐ ব্যক্তির ফটো পাঠিয়ে জানানো হয়, যে এই অন্ধ ব্যক্তি সাহায্য চাইতে এসে ছিলেন! তখন দেবব্রত বাবু বললেন ওনার নাম কি? কোথায় বাড়ি? কি ফোন নাম্বার জানাও!
কর্মচারী বললেন স্যার, উনি ওনার ফোন নাম্বার বলতে পারেন নি! তবে আপনার ফোন নাম্বার নিয়ে গেছে! রাতের দিকে ফোন করবে বলেছে, আমরা ঐ সময়ের দিকে বলেছি, তাই। দেবব্রত বাবু দেখলেন রাতে কোনো ফোন আসেনি! কর্মচারী কে বললেন, কই কোনো ফোন এলো না তো! কর্মচারী বলল স্যার আপনার ফোনে রাতে আটটা নটার দিকে কোনো মিস কল থাকলে দেখবেন, ওতে পাবেন হয়তো! দেবব্রত বাবু ফোন দেখে যে মিস কল দু একটা ছিলো তাতে ফোন করে দেখলেন, ওগুলো সব অন্ধ ঐ ব্যক্তি নন এবং ওরকম কোনো ব্যাপারে ওনাদের থেকে কেউ এমন ফোন করেনি! দেবব্রত বাবু কর্মীকে বকে দিলেন! বললেন যে কেউ এমন এলে, নাম ধাম বা ফোন নাম্বার ক্যানো রাখেনি? বললেন যাও খুঁজতে বের হয়ে সন্ধান করো! কেউ বিপদ থেকে উদ্ধার চাইতে এসেছিলো, কিছুই না জেনে ছেড়ে দিলে ক্যানো? কর্মচারী ওর জানা পরিচিত বন্ধু বান্ধব দের ফোন করে ও ফটো পাঠায়! সবাই জানায় কেউ ওনাকে চেনে না! ঐ অন্ধ ব্যক্তি বলেছিল অশ্বত্থতলা গ্রামের পেছনের তেঁতুলতলা গ্রামের নাম! দেবব্রত বাবু শুনে বললেন কর্মচারীকে,যে ও যেন ঐ তেতুলতলা গ্রামে পরের দিনই গিয়ে গ্রামের পুরো এপার থেকে ওপার পর্যন্ত ঘুরে খুঁজে দেখে! তাহলে পেয়ে যাবে! কর্মচারী তাই করলো পরের দিন! না পেয়ে ফিরে এসে তামিলনাড়ুতে দেবব্রত বাবুকে জানায়, সব কথা!
তখন দেবব্রত বাবু নিজেই ভিন্ন জনকে হোয়াটস্যাপ করে ফটো পাঠিয়ে খোঁজে নেমে পড়লেন!ফেসবুকে ও দিলেন, সাহাযোগীতার জন্য খোঁজ, বলে!
ঐ তেঁতুল তলার এক সদস্য জানালেন উনি ফেক! কিন্তু এমন একজন ট্রেনে ভিক্ষে করে বেড়ায়! কিন্তু তার বাড়ি আরও ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরের মাধবপুর নামের কোনো এক গ্রামে! দেবব্রত বাবু খোঁজ করতে নেমে পড়লেন ঐ মাধবপুরের দিকে! একজন বললেন, যে আর আসেনি তাকে আর খোঁজার কি দরকার? কেউ বললেন ওহ, ঐ লোকটা ফ্রড! ওর নামটা বলতে পারলো!ফোন নাম্বার বা ঠিক ঠিকানা কেউই দিতে পারেনি! দেবব্রত বাবুকে এক সাহিত্যিক কোনো কাজে ফোন করেছিলো! তাকে তখন দেবব্রত বাবু এই ব্যাপারটা বলেন! তিনি ফটো দেখে বললেন তিনি ওনাকে চেনেন ও একদিন সময় চাইলেন, ফোন নাম্বার পেতে!
পরের দিন পৌঁছে গেলেন ঐ অন্ধের বাড়ি! ওর দাদার সঙ্গে কথা বলে ফোন নাম্বার নিয়ে, ঐ অন্ধের সঙ্গে কথা বলতে পারলেন! তারপর দেবব্রত বাবুকে জানিয়ে দিলেন নাম্বার এবং বললেন কথা বলতে!
দেবব্রত বাবু ফোন করলেন অন্ধকে, নিজের পরিচয় না দিয়ে!
অন্ধ নিজের দুঃখের সমস্ত কাহিনী বলেই চলেছিলেন, ভিক্ষার হাত পেতে! উপরের সব কাহিনী ঐ অন্ধ বলতে রইলেন দেবব্রত বাবুর ব্যাপারে! বললেন কেউ ওনাকে নাকি বলেছেন যে দেবব্রত বাবু হলেন ভগবান! কথা শুনে দেবব্রত বাবুর মন অনুভূতির গভীরে পৌঁছে গেলো! উনি অন্ধের সমস্ত কথা ফোনে রেকর্ড করে নিলেন! পরে শুনলেন আবার! ওনাকে বললেন, পরের দিনই এসে যেন নিয়ে যায় ঐ কাঁসার কলসী, যা মেয়ের বিয়ের জন্য প্রয়োজন! পাঁচ কেজি ওজনের সুন্দর কলসী দিয়ে নির্লিপ্ত তৃপ্তি নিয়ে ফিরে গেলেন ঐ অন্ধ নিশ্চিন্তপুরের মহাতীর্থ থেকে পরের দিনই, ২রা জুন ২০২৬!
ধুমধাম করে বিয়ে হোলো ঐ অন্ধের কন্যা পিয়ালীর! অন্ধের বাণী শুনে ওর সততার পরিচয় ও মিললো দেবব্রত বাবুর!এই চার পাঁচ দিনের ঘটনার উল্লেখে দেখা গেলো
“আমরা আছি অন্ধলোকে
চোখ আমাদের বন্ধ করে,
কলুষ সমাজ আর সংস্কৃতি থামিয়ে দিচ্ছে এ সুন্দরে”! কতো কেউ ওরে জানেও না, দেখেনি কিন্তু বলেই গেলো, ফ্রড, ফেক, করার দরকার নেই - সে আবার আসেনি যখন ইত্যাদি ইত্যাদি! দেবব্রত বাবুর ও চোখ খুলে গেলো সমাজ দর্শনে! যদি প্রশ্ন আসে, দেবব্রতবাবু কেনই বা এমন করলেন? লোকটা কি ওনার জানা শোনা ছিলো? না! উনি জগত সেবায় নিমজ্জিত! এই প্রয়োজনে ওনার বন্ধুরা ওনাকে বিশ্বাস করে সাহায়ের হাত বাড়িয়ে দেয়! এই খবরটা পেয়ে ওনার কলেজে পড়ার বন্ধু উজ্জ্বল মজুমদার এগিয়ে এসেছিলো আর্থিক সহযোগীতা করবে বলে! তাই দেবব্রত বাবু এগিয়ে গিয়ে ছিলেন পূর্ণ পদক্ষেপে! বৃন্দাবন আদক এগিয়ে এসেছিলেন দোকান থেকে সময় মতো, প্রয়োজন মতো কিনে এনে দিতে, দেবব্রত বাবুর অবর্তমানে! অন্ধজনে দিলে আলো
জগত রবে ভালো
আঁখির দৃষ্টি করো মধুর
এনো, নিজের চোখে আলো।